রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে সিলেট, নগরীতে নেই অগ্নিনির্বাপণের ‘ফায়ার হাইড্রান্ট’ ব্যবস্থা

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে সিলেট, নগরীতে নেই অগ্নিনির্বাপণের ‘ফায়ার হাইড্রান্ট’ ব্যবস্থা

নিউজ ডেস্কঃ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সিলেট নগরীতে অগ্নিনির্বাপণে দ্রুত পানি সরবরাহ করতে ‘ফায়ার হাইড্র্যান্ট’ ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও এক্ষেত্রে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে থাকা পানিতে ২০ মিনিট পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব। পরে অন্য উৎস থেকে পানি না পেলে ফায়ার সার্ভিসের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে । অগ্নিকান্ডের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে জানমাল রক্ষায় ফায়ার হাইড্রান্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে (সিসিক) অনুরোধ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

জানা যায়, জেলা সদর থেকে পৌরসভা এবং পরে মহানগরীতে পরিণত হওয়া সিলেট নগরীর জনসংখ্যা ও আয়তন কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে নগরীর জনসংখ্যা ৫ লক্ষাধিক এবং আয়তন সাড়ে ২৬ বর্গকিলোমিটার। এরপরও প্রতিদিনই বাড়ছে নগরীর আয়তন ও জনসংখ্যা। সিলেট নগর মহাপরিকল্পনায় (২০১০-২০৩০) সিলেট নগরীর আয়তন ধরা হয়েছে ৮৫ দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার। ইতেমিধ্যে সিসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন নতুন বাণিজ্যিক এলাকা এবং অসংখ্য গগনচুম্বী অট্টালিকা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেট নগরীতে বর্তমানে ৬৫/৭০ হাজার ভবন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক হাজার সুউচ্চ ভবন। নগরীতে প্রতিনিয়ত হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের সংখ্যা বাড়ছে। নগর বৃদ্ধির সাথে প্রাকৃতিক জলাধার প্রায় হারিয়েই গেছে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার হাইড্রান্ট লাইন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাস্তার পাশে বা সুবিধাজনক স্থানে দেয়া হয়। যাতে জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার হাইড্রান্ট লাইনের সাথে হোসপাইপ লাগিয়ে দ্রুত অগ্নিকান্ডের স্থানে পানি নিক্ষেপ করা যায়। একটু দূরে হলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখান থেকে দ্রুত পানি এনে অগ্নিনির্বাপণে কাজ করতে পারে। তাছাড়া, উঁচু ভবনগুলোতে পানি নিক্ষেপের জন্য পর্যাপ্ত পানি হাইড্রান্ট লাইন থেকে পাওয়া যায়। তবে, যেসব ভবনে রিজার্ভ ট্যাংকি রয়েছে ; সেগুলোকেও হাইড্রান্ট হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার হাইড্রান্ট মাটির উপরে কিংবা নীচে দুই পদ্ধতিতেই স্থাপন করা যায়। এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি ‘ওয়েট ব্যারেল ফায়ার হাইড্রান্ট’। এতে অবিরত পানি সরবরাহ থাকে। অন্যটি ‘ড্রাই ব্যারেল ফায়ার হাইড্রান্ট’। এ ধরনের পাম্পে বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা ঢাকনা দ্বারা পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। প্রয়োজনে ঢাকনি সরিয়ে দিলে বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু করলে পানি সরবরাহ হয়। তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে- এর সঙ্গে লম্বা পাইপ যুক্ত করে ইচ্ছেমতো যে কোনো দূরত্বে পানি সরবরাহ করা যায়।

সিলেট নগরীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ হাবিবুর রহমান বলেন, কেবল ফায়ার সার্ভিস আধুনিকায়ন করলেই হবে না, নগরীর বাণিজ্যিক ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত বড় গাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পানির ব্যবস্থা থাকলে ছোট যন্ত্রের মাধ্যমেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঢাকার চকবাজার, নিমতলী ট্রাজেডি এবং নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ড থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

নগর পরিকল্পনায় ফায়ার হাইড্রান্ট ব্যবস্থা রয়েছে কি-না জানতে চেয়ে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে এ বিষয়ে কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানান। পরে বলেন, মন্ত্রণালয়ে এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে কাজ করা হবে। নগরীর কোন কোন স্থানে হাইড্রান্ট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রকল্প অনুমোদিত হলে ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে স্থান নির্ধারণ করা হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, নগর এলাকায় অগ্নিনির্বাপণে দ্রুত পানি পেতে একটি কার্যকর আধুনিক পদ্ধতি হচ্ছে ‘ফায়ার হাইড্রান্ট’ ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিসের যেসব গাড়ি রয়েছে, সেগুলো ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ লিটার পানি ধারণ করতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে যে পানি থাকে, তা দিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগুন নেভানো যায়। এরপর বিকল্প উৎস থেকে বা রিজার্ভ থেকে পানি না পেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়ে যেতে পারে। ফায়ার হাইড্রান্ট থাকলে দ্রুত হোসপাইপ দিয়ে অথবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পানিপূর্ণ করে দ্রুত আগুন নির্বাপণ করা যায়। তাছাড়া, ব্যস্ত এলাকায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো কঠিন হয়ে যায়, তখন ফায়ার হাইড্রান্ট ব্যবস্থা থাকলে দ্রুত আগুন নিভিয়ে ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা করা যায়।

সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক সিলেট চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিলেট নগর মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তার মধ্যে অগ্নিনির্বাপণের সুষ্ঠু পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর দেশের সবচেয়ে বেশি বহুতল ভবন নির্মিত হয় সিলেটে। তাই, অগ্নিকান্ডের কোন ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়, তার জন্য যন্ত্রপাতি ও লোকবলের পাশাপাশি পানির উৎসগুলো নিশ্চিত করতে হবে। সমন্বয় না থাকলে একটির কারণে অন্য কাজটি করা যাবে না। পুকুর ও জলাশয় রক্ষা এবং হাইড্রান্ট এর পানির ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।

ফায়ার হাইড্রান্ট এর বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও সিসিকের নগর উন্নয়ন কমিটির সদস্য ড. মো. জহির বিন আলম বলেন, বর্ধনশীল সিলেট নগরীতে বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। তাছাড়া, দেশের মধ্যে সবচাইতে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট। তাই, আগুন লাগার পরপরই দ্রুত আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে অগ্নিনির্বাপণের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, হাইড্রান্ট লাইন স্থাপনের পাশাপাশি নিজস্ব ভবনে হাইড্রান্ট এর ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেসব ভবনে রিজার্ভ পানির ট্যাংকি রয়েছে; সেসব রিজার্ভারের এক তৃতীয়াংশ পানি ফায়ার সার্ভিসের জন্য রাখার নিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো তাদের রিজার্ভারে সব সময় সেই পরিমাণ পানি রাখছে কি না তা সিসিককে নজর রাখতে হবে।

এ বিষয়ে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

July 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24