রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০২:২৪ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
বারাক ওবামার প্রিয় কিছু বই

বারাক ওবামার প্রিয় কিছু বই

নিউজ ডেস্কঃ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত দশকের বিভিন্ন সময়ে, মাঝেমাঝেই তার প্রিয় বইগুলোর কথা জানিয়েছেন। তন্মধ্যে তার স্বরচিত ‘এ প্রমিজ ল্যান্ড’ও অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমরা তার পছন্দের কিছু বই নিয়ে আলোচনা করব; যেন নিজেদের পাঠ্যতালিকাও সমৃদ্ধ করা যায়। তাছাড়া এ তো স্বতসিদ্ধই যে বারাক ওবামা অসম্ভব রকমের একজন পড়ুয়া মানুষ।

একদম ‘বইপোকা’ বলা হয় যাকে। তাই তাবৎ দুনিয়ার ব্যস্ততম একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও বছরে এক দু’বার তার প্রিয় বইয়ের বিশাল ফর্দ প্রকাশের সংবাদ পাওয়া যায়; যেগুলো আমাদেরও উদ্বুদ্ধ করে। মূলত, উপন্যাস থেকে শুরু করে সবধরনের প্রবন্ধ সমগ্রসমূহ তার পছন্দ ও পরামর্শের তালিকায় আছে। যাহোক, তা তার প্রিয় বইগুলোর দীর্ঘ সূচি থেকে প্রথমেই আমাদের সামনে আসে ডরিস কেয়ার্নস গুডউইন-এর ‘টিম অব রাইভাল।’

টিম অব রাইভালস-২০০৫

ওবামাকে তার প্রথম প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘কোন বইটি সঙ্গে নিয়ে হোয়াইট হাউজে যেতে চান তিনি?’ জবাবে তার উত্তর ছিল, ‘টিম অব রাইভাল।’ ডরিস কেয়ার্নস গুডউইন-এর যুগান্তকারী এ বই একটি মনোমুগ্ধকর রচনা। যেখানে তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে আব্রাহাম লিঙ্কনের সুদক্ষ রাষ্ট্রপরিচালনার গল্প বিবৃত করেছেন যে, কীভাবে লিঙ্কনের মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে তুলেছিল। বিরোধী দলের কাছে অনুকরণীয় নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যা উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল হিসাবে বিবেচিত। ফলে, ২০০৮ সালে তৎকালীন সিনেটর থাকা অবস্থায় এক সাক্ষাৎকারে ওবামা তার প্রিয় এ বইকে ‘রিমার্কেবল স্টাডি ইন লিডারশিপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং এ আশ্চর্য নয় যে, নিশ্চয়ই তিনি তার সঙ্গে হোয়াইট হাউজে এ বই নিয়ে গিয়েছিলেন।

গার্ল, ওমেন, আদার-২০১৯

বার্নার্ডাইন ইভারিস্টো রচিত ‘গার্ল, ওমেন, আদার’ বইটিও আছে বারাক ওবামার পছন্দের তালিকায়। মূলত ইভারিস্টো দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে বেশকিছু পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ লিখেছেন। সাফল্যের এ ধারায় বিখ্যাত হলো দুই হাজার উনিশে বুকার প্রাইজ পাওয়া তার অন্যতম রচনা ‘গার্ল, ওমেন, আদার’ বইটি।

দ্য ফায়ার নেক্সট টাইম-১৯৬৩

১৯৬৩ সালে রচিত জেমস বল্ডউইন-এর এ বই একটি হৃদয়বিদারক উপাখ্যান। কালোদের জীবন প্রবাহে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের আলেখ্য প্রতিচ্ছবি। মূলত আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন সমগ্র মার্কিন রাষ্ট্র উত্তাল; ওবামা তখন ফ্লয়েড খুনের পরিপ্রেক্ষিতে বল্ডউইনের সর্বকালীন সময়োচিত এ শব্দগুলোর উল্লেখ করেন যে, ‘যে কোনো বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের পেছনে যন্ত্রণা ও ক্রোধটা উপলব্ধি করুন।’

অধিকিন্তু দ্য ফায়ার নেক্সট টাইম সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ওবামা এ-ও বলেছেন, ‘এটা সত্যিই ভয়ংকর যে, এরকম চরম এক বাস্তবতাকে ৫০ বছর আগে কীভাবে জেমস বল্ডউইন প্রকাশ করতে পারেন! অথচ তা এমনই যে, মনে হয় গতকাল লেখা হয়েছে।’ প্রকৃত জাতিগত বৈষম্যের ওপর লেখা একটি মৌলিক কাজ এ বই। বইটিতে ব্যক্তিগত দুটি নিগূঢ় প্রবন্ধ রয়েছে। এর একটি চিঠির আদলে লেখা ভাগ্নের প্রতি তার পত্র; যা স্বাধীনতা ঘোষণার শতবর্ষে রচিত। অন্যটি, হারলমে তার প্রথম জীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং জাতি ও ধর্মের প্রতিচ্ছেদ বিশ্লেষণ।

দ্য ওয়ার্মথ অব আদার সানস-২০১০

১৯১৫ থেকে ১৯৭০-এর মধ্যে প্রায় ছয় মিলিয়ন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক একটা যাপনযোগ্য জীবনের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ রাজ্য ছেড়ে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন। সেই সময়ের যথাযথ ধারাবিবরণী ও চিত্রবালীই ইসাবেল উইলকারসন তার এ বইয়ে নিপুণভাবে বর্ণনা করেছেন। গল্পের আবরণে তুলে ধরেছেন নিষ্ঠুর সে সময়ের ক্লান্তিকর আন্তঃদেশীয় ভ্রমণের চিত্রগুলো এবং সেইসঙ্গে লোকদের পুনরায় নতুন করে শুরু করার আশা। মূলত ২০১৬ সালে ইসাবেল তার ‘ন্যাশনাল হিউমিনিটিজ এ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করলে, বারাক ওবামা বলেছিলেন, ‘বারোশ-এরও অধিক পরিবার ইসাবেলকে তাদের পরিবার-পরিজনের মর্মন্তুদ জীপনযাপন, চূড়ান্ত ধৈর্য ও শেষ পর্যন্ত পরাভূত হওয়ার সেসব গল্প শুনিয়েছেন। এগুলো তেমনই কিছু গল্প; যা তারা প্রায়ই আপন সন্তানদের কাছে বলতেও বেশি ব্যথিত বোধ করতেন। তবু এতদসত্ত্বেও ইসাবেলকে তার কাজের বিশালতা জয় করতে হয়েছিল এবং অন্যের সন্দেহকে ভুল প্রমাণ করতে হয়েছিল। অবশ্য তিনি তা করেছিলেন এবং আমাদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় তার রচনায় এমনই নিখুঁতভাবে বিবৃত করেছেন যে, যে কোনো তরুণই তা নিজ হাতে তুলে নিয়ে পাঠে মনোনিবেশ করতে পারে।’

এক্সিট ওয়েস্ট-২০১৭

সায়ীদ এবং নাদিয়া। প্রাপ্তবয়স্ক এ দু’জন তরুণ-তরুণী যুদ্ধের মাঝে নামহীন এক শহরে বসবাস করে। বহতা জীবন রোজই সেখানে বিপজ্জনক হয়ে উঠলে হঠাৎই এ যুগল শহরের মাঝে এক আশ্চর্য দরজা প্রকাশের গুজব শুনতে পায় এবং তা আবিষ্কারের পর তারা ততধিক বিস্মিত হয়। এ গল্পেই সাজানো বইটি ২০১৭ সালে বুকার প্রাইজের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করেছিল। প্রকৃত মুহসিন হামেদের এ উপন্যাস আকারে ছোট হলেও এর গল্প অত্যন্ত গভীর ও প্রভাব বিস্তারকারী। যদিও অভিবাসন সম্পর্কে এ গল্পের ধারাবিবরণী আমাদের বর্তমান সময়ের সঙ্গে বিশেষ প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়; তবুও এর গদ্যশৈলী ও চিত্রতা একটি মনোমুগ্ধকর, চিরায়ত রূপকথা পাঠের অনুভূতি দেয়।

মবি-ডিক-১৮৫১

তর্কসাপেক্ষেই ১৮৫১ সালে প্রকাশিত হওয়া হারমান মেলভিলের উপন্যাস ‘মবি ডিক’ উনিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী এক রচনা। এমনকি পাঠকরাও; যারা কিনা ক্যাপ্টেন আহাবের তীব্র প্রতিশোধের নেশায় সাদা তিমির অনুসন্ধানে খেদোন্মত্ত হয়ে যাওয়া মহাকাব্যের রহস্যও জয় করতে পারেনি- তারাও এর আবেশে বুঁদ হয়ে থাকেন। যে তিমিটি তার পায়ে লেগেছিল। অধিকিন্তু উপন্যাসটি সূচনায় তার চিরায়ত অমর সেই লাইনের কারণেও মূল্যায়িত হবে যে, ‘আমাকে ইসমাহেল বলে ডাকো।’ সুতরাং একজন লোভী পাঠক হিসাবে এ আশ্চর্য নয় যে, মবি-ডিকের মতো এমন ক্লাসিক কোনো আমেরকিান রচনাকে বারাকা ওবামা তার প্রিয় বইয়ের তালিকায় রাখবেন। বইটি তার ফেসবুক পেজে তার অন্য প্রিয় দুটি গ্রন্থ বাইবেল ও শেকসপির্য়স ট্রাজেডির পাশে রাখা হয়েছিল।

হোয়ার দ্য ওয়াইল্ড থিংস আর-১৯৬৩

এরিস সেন্ডাক্স-এর শিশুতোষ উপন্যাস ‘হোয়ার দ্য ওয়াইল্ড থিংস আর’ আমেরিকান সাহিত্যের অন্যতম ক্লাসিক এক গ্রন্থ। বন্য জন্তুদের অভায়রণ্য রহস্যময় এক দ্বীপে ম্যাক্স ও তার দুঃসাহসিক অভিযানের গল্পই বলা হয়েছে বইটিতে। চিরয়াত এ গ্রন্থখানা শিশু ও বয়ঃপ্রাপ্ত- প্রায় সবার কাছেই সমান জনপ্রিয়। তেমনই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও অতি পছন্দের একটি বই এটি। জানা যায়, প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউজে আয়োজিত ‘ইস্টার এগ রোল ফেস্টিভ্যাল’ থেকে কয়েকবার এ বইখানা পড়েছেন তিনি।

ইনভিজিবল ম্যান-১৯৫২

র‌্যল্ফ এলিসন-এর প্রথম উপন্যাস ‘ইনভিজিবল ম্যান।’ বইটিতে অজ্ঞাত এক যুবকের গল্প বলা হয়। মূলত বেনামি সে যুবক নিজেই উত্তম পুরুষ হয়ে গল্পের বিবরণ দিয়ে যায়, কীভাবে কলেজ জীবনে তারুণ্য থেকে পরবর্তী সময়ে ১৯৩০ সালে হারলমে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান মুখপাত্র হয়ে ওঠেন। যাহোক, দুর্দান্ত এ উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাড়া ফেলে এবং যখন তা প্রকাশ হয়; তাৎক্ষণিক সাফল্যে পরিণত হয়। এমনকি ১৯৫৩ সালে ন্যাশনাল বুক এওয়ার্ডও অর্জন করে এবং আমেরিকান সাহিত্যে এলিসনকে বিশ শতকের অন্যতম প্রধান উপন্যাসিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। প্রেসিডেন্ট ওবামা তারুণ্যে তার প্রিয় বই হিসাবে এই গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেন।

ফর হুম দ্য বেল টুলস-১৯৪০

১৯৪০-এ প্রকাশিত হওয়া আর্নেস্ট হেমিংওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় এ বইটি মূলত স্পেনিশ বেসামরিক যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। এ সময়ে যেটি তার প্রধান রচনার একটি বলে গণ্য করা হয়। আর নিশ্চিতভাবেই বিখ্যাত এ রচনা ওবামার অতিপ্রিয় বইগুলোর একটি বলে জানা যায়। কেননা, ২০০৮ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেছেন, ‘এই বইটি তাকে যারপরনাই উৎসাহিত করেছে।’ তবে মজার ব্যাপার হলো, বইটি ওবামার সাবেক রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইন-এরও প্রিয়। যিনি কিনা ২০১২ সালে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘রবার্ট জর্ডানের মাঝে এমন সবকিছুই ছিল আমি যা হতে চেয়েছি।’

সেল্ফ রিলায়েন্স-১৮৪১

বোস্টন বংশোদ্ভূত প্রাবন্ধিক, দার্শনিক ও কবি রাল্ফ ওয়াল্ডো এমারসনের বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘সেল্ফ রিলায়েন্স।’ বইটি ১৮৪১ সালে প্রকাশিত হয়। যাতে এমারসন ব্যক্তি স্বতন্ত্রতা, সামঞ্জস্যহীনতা এবং স্বাধীনতার গুরুত্বের ব্যাপারে তার নিজস্ব চিন্তা ও বিশ্বাস তুলে ধরেন। তুমুল জনপ্রিয় ও মৌলিক এ বইটি উনিশ শতকে আমেরিকার ট্রান্সসেন্টালালিজম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ও অগ্রগণ্য রচনা হিসাবে সর্বোতভাবে বিবেচনা করা হয়। স্পষ্টভাবেই প্রেসিডেন্ট বারাকা ওবামা এমারসনের দর্শন ও তার রচনায় প্রভাবিত অনুরক্ত একজন পাঠক। কেননা ২০০৮ ও ২০১৫ দুই দুইবারই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর স্বাগত বক্তব্যে তিনি এমারসনের বিখ্যাত এ উক্তি আবৃত্তি করেন যে, ‘এ ফোলিশ কনসিসটেন্সি ইজ দ্য হবগাবলিন অব লিটল মাইন্ডস।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

July 2021
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24