শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
আজকের সংবাদ শিরোনাম :
বরাদ্দের মেয়াদ শেষের পথে, শুরু হয়নি উন্নয়ন কাজ

বরাদ্দের মেয়াদ শেষের পথে, শুরু হয়নি উন্নয়ন কাজ

নানান অবহেলা আর অযত্নে পরে থাকা দেশের সর্ববৃহৎ বরিশাল শিল্প নগরীর বিশাল সম্পত্তি কোনো কাজে আসছে না। ১৯৬০ সালে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমির উপর এ শিল্প নগরী গড়ে তোলা হয়। তখন ব্যয় হয়েছিল ১৩১ দশমিক ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এর কোন বিকাশ ঘটেনি। বরং চরম অযত্ন আর অবহেলায় এখন চরম বেহাল দশা এই শিল্প নগরীর।

 

এই শিল্প এলাকার সড়কের খানা-খন্দের কারণে চলাচল করতে পারছে না কোনো পরিবহন। ড্রেনেজ পদ্ধতির কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় পুরো বিসিক এলাকা। বিশাল এই শিল্প এলাকা রক্ষায় এ শিল্প নগরীতে নেই কোনো নৈশ প্রহরী। চরম অযত্ন আর অবহেলার পাশাপাশি বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বরিশাল বিসিক শিল্প নগরী এখন পরিত্যক্ত এলাকার রূপ নিয়েছে। এখানকার ৫০টিরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া দূরের কথা, শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়েছে মালিকদের জন্য। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দেশের সর্ববৃহৎ আয়তনের এই বিসিক শিল্প এলাকা এখন হুমকির সম্মুখীন।

 

ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে প্লাস্টিক ও আইসক্রিম কারখানাগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ম্যাকপাই পিভিসি প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের সত্ত্বাধিকারী রাইসুল হায়দার টিপু জানান, ২০০৬ সালে ব্যাংক থেকে ঋণসহ ৫০ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি বিসিকে একটি প্লট নিয়ে প্লাস্টিক ব্যবসা শুরু করেন। সেই থেকে বিসিক অফিসের নানান অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অব্যাহত লোড শেডিংয়ে তিনি এখন দেউলিয়ার পথে। পণ্য আনা নেওয়ার জন্য কোনো গাড়ি তার ফ্যাক্টরি পর্যন্ত আসতে পারলেও পণ্য নিয়ে আর যেতে পারে না। সড়কের খানা-খন্দে পণ্য বোঝাই গাড়ি আটকে থাকে। এজন্য ব্যবসা একরকম গুটিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

 

 

নানান জটিলতা কাটিয়ে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে একনেকে পাস হয় এ প্রকল্পের ৫২ দশমিক ২০ কোটি টাকা এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক সময় চেয়ে তা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। বৃদ্ধি পাওয়া সময় অনুযায়ী ৫ মাস বাকি থাকলেও এখনও শুরু হয়নি প্রকল্পের কাজ।

 

 

প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক ও বরিশাল শিল্প নগরী কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাশার জানান, তিনিও দুই বছর সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। প্রকল্পের অধীন অনুন্নত এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, তিনি চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকল্প কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। তার দেওয়া তথ্য মতে এ শিল্প নগরীতে বর্তমানে ৩৭৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদনরত রয়েছে ১৭৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। বাকি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন ও বরাদ্দকৃত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে বিসিকর উল্লেখযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফরচুন সুজ লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আগ্রহী উদ্যোক্তা শিল্প ইউনিট করার লক্ষ্যে এগিয়ে আসছেন। অনুমোদনকৃত ৫২ দশমিক ২০ কোটি টাকায় শিল্প নগরীর অফিস ভবনসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, পানির পাম্প ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার এবং অনুন্নত জমিতে মাটি ভরাট, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট, বিদ্যুৎ ও সাব-মারসিবল পাম্প সহ পানি সরবরাহ করা হবে।

 

বিসিক মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান অহিদ জানান, সরকার যত টাকাই বরাদ্দ দেক না কেন বিসিকের অসাধু কর্মকর্তারা তা লোপাট করে। তিনি সরকার ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, তাদের প্রত্যক্ষ তদারকি ছাড়া সকল টাকা লোপাট হয়ে যাবে। বিসিকের কোনো উন্নয়ন হবে না। দীর্ঘ চেষ্টা করেও এ শিল্প এলাকার উন্নয়নে এখানকার বিসিক অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি। কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন স্থান থেকে শিল্প উদ্যোক্তাদের বিসিকে এনে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে তিনি এখন বিপাকে পড়েছেন। প্রত্যেক শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে বিশাল অংকের সার্ভিস চার্জ, পানির বিল বিসিক অফিস আদায় করলেও বিসিকের কোনো উন্নয়নে তাদের পাওয়া যায় না। কোনো প্রহরী না থাকায় অরক্ষিত থাকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। বিদ্যুতের জন্য পৃথক ফিডারের জন্য চেষ্টা করে তারা বিফল হয়ে আছেন অফিসের কোনো সহায়তা না পাওয়ায়।

 

ফরচুন সুজ লিমিটেড’র ডিজিএম (প্রশাসন) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও রাস্তা বেহাল দশায় তাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিদ্যুতের বিকল্প পাওয়ার প্লান্টে প্রতি বৎসর তাদের ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। যা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকি। যদি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যেত তাহলে তাদের এ বিশাল অংকের এই অর্থ ব্যয় হত না। পাশাপাশি যথা সময় পণ্য ডেলিভারি দিতে গেলে সড়কের বেহাল দশার কারণে তা সম্ভব হয় না। ছোট গাড়িতে অল্প অল্প করে দীর্ঘ সময়ে তা সম্

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24