রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
নদী ভাঙ্গনে বিলীন রাস্তা

নদী ভাঙ্গনে বিলীন রাস্তা

সিলেট  ::গোলাপগঞ্জের চন্দরপুরে নদী ভাঙ্গনের কবলে ফের বিলীন হয়েছে নদী পাড়ের রাস্তা। নতুন করে ভাঙ্গনের ফলে হযরত কামিল শাহ (রহঃ)-এর মাজারের অবশিষ্টাংশও চলে গেছে নদী গর্ভে। হুমকির মুখে রয়েছে ঘরবাড়ী, জমি, বাজার, আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজারের মসজিদ।

নতুন করে সৃষ্ট ভাঙ্গনে আবারোও রাস্তা বিলীন হওয়ায় সমস্যায় পরেছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। বিলীন হওয়া রাস্তার অবশিষ্টাংশ দিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন পার হচ্ছেন সহস্রাধিক পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার কবলে পরছেন তারা। রাস্তাটি বিপদসংকুলান হওয়ায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা থাকেন চরম উৎকণ্ঠায়। অনেকেই স্কুল, কলেজ ও বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

ঘর ভেঙ্গে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিলো। সেই রাস্তাটিও আজ বিলীন

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পথচারী কিংবা শিক্ষার্থীরা একজনের হাত অনজ্যন ধরে, কোথাও আবার বাঁশে কিংবা লাঠিতে ভর করে পার হচ্ছেন। ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুহুল আমীন জানান অনেকটা ভয় নিয়ে আমাদের এ পথ চলতে হচ্ছে। ১০ম শ্রেণীর ছাত্র সাইদুল ইসলাম বলেন এ রাস্তাটি মৃত্যুপুরীর রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি থাকায় আমাদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষা থাকায় ঝুঁকি নিয়েই স্কুলে যেতে হয়। পথচারী হাসান আহমেদ শাকিল জানান একটু বৃষ্টি হলেই ঘটে চরম বিপত্তি। এখন হাতে হাত ধরে চলাচল করা গেলেও তখন ঘটে দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পরেছেন স্কুল কলেজের ছাত্রীরা। ঝুঁকিপূর্ণ এ রাস্তা যাতায়াতে অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পরেছেন তারা।

ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

স্থানীয়দের কাছে এই মৃত্যুপুরীর রাস্তাটির ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্ষোভ ঝাড়েন অনেকেই। তাদের ভাষ্য বারবার নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এখানকার রাস্তা ও ঘরবাড়ী। রাস্তা বিলীন হওয়ার পর অনেকের ঘড় ভেঙ্গে, অনেকের জায়গার উপর দিয়ে নতুন করে রাস্তা তৈরি করা হয়। কিন্তু প্রতি বৎসরই নদী ভাঙ্গনের ব্যাপকতার কাছে হার মানে সকলের পরিশ্রম। এত কিছুর পরও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় ক্ষোভ ঝাড়েন তারা।

কয়েক বছর আগে একটি ঘর ভেঙ্গে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিলো

চন্দরপুরের নদী ভাঙ্গন নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছরই ভাঙ্গনের কবলে থাকে এ গ্রাম। প্রায় কয়েক দশক থেকে চলে আসা এখানকার নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা হ্রাস পায়নি একটুও। ভাঙ্গনের এ তীব্রতায় ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে এখানকার বিস্তৃত জায়গা, ঘরবাড়ী, রাস্তা, বাজার ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে চন্দরপুর বাজার, চন্দরপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়, বাজার মসজিদ, আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, লামা-চন্দরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, অসংখ্য ঘরবাড়ী ও রাস্তাঘাট। স্থানীয়রা এ দুর্ভোগ লাঘবে একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্য বরাবরে আবেদন জানালেও সমস্যা নিরসনে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি আজও।

বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামাল বলেন, এখানকার নদী ভাঙ্গনের তীব্রতায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন স্থানীয়রা। অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবী জানান।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখানকার ভাঙ্গনের তীব্রতা ব্যাপক থাকায় তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গোচরে আনতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

June 2019
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24