শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
আজকের সংবাদ শিরোনাম :
যে দোয়ায় দিনরাত সব সময় সওয়াব মিলে যুক্তরাজ্য জাসদের উদ্যোগে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা বৃটেনে ইসলামী শিক্ষা বিস্তার ও মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় মাওলানা তহুর উদ্দীন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনা করে গেছেন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় যুক্তরাজ্যের বিএনপির খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল বালাগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা কানাডায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন সিকিউরিটি কোম্পানির যাত্রা শুরু ‘শুভ চঞ্চল সকাল’ ‘ঈর্ষান্বিত বিএনপি অপশক্তিকে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে’ ‘একটাই দাবি- দেশনেত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে’ বিশ্রামে কোহলি, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভারতের সম্ভাব্য একাদশ
তির-ধনুকে রোমানের স্বপ্নযাত্রা: তালতলা থেকে টোকিও অলিম্পিক

তির-ধনুকে রোমানের স্বপ্নযাত্রা: তালতলা থেকে টোকিও অলিম্পিক

খুলনা শহর থেকে উঠে এসে টোকিও অলিম্পিকে খেলবেন রোমান সানা। বাংলাদেশের অগ্রসরমাণ আর্চারিতে যা বিরাট এক অনুপ্রেরণা

গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যখন হল্যান্ডে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারকে ফোন করা গেল, তিনি মাঠেই ছিলেন। জানালেন, রোমান সানা অনুশীলনে ব্যস্ত। ২০২০ টোকিও অলিম্পিক গেমসে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনই তাঁর এই ভ্রমণের শেষ নয়। আগামীকাল ব্যক্তিগত রিকার্ভে ব্রোঞ্জেরও লড়াই। এই রিকার্ভেই পরশু সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশের সেরা আর্চার তুলে নিয়েছেন আগামী বছর টোকিও অলিম্পিকে খেলার আরাধ্য ছাড়পত্র।

 

বাংলাদেশের কোনো ক্রীড়াবিদের এই সাফল্যটা অনেক বড়। এর আগে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার ‘কোটা প্লেস’ পেয়েছেন শুধু গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তা-ও এভাবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিযোগিতায় খেলে নয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা ৬০-এ থাকার কল্যাণে। তাঁর পরেরজন এই রোমান সানা। বাংলাদেশের প্রথম আর্চার যিনি নিজের যোগ্যতায় অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চে হাজির করছেন নিজেকে।

 

সেটিও হল্যান্ডে চলমান আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ চমক দেখিয়ে। বড় বড় খেলোয়াড়কে বিদায় করে। যাঁর মধ্যে আছেন ২০১১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এই রিকার্ভে সোনা জেতা দক্ষিণ কোরিয়ার কিউ উজিনও (কোয়ার্টার ফাইনালে)। রোমান গড়লেন নতুন ইতিহাস।

 

এই প্রতিযোগিতায় একে একে জয় তুলেছেন অস্ট্রেলিয়া-হল্যান্ডের খেলোয়াড়ের বিপক্ষে। পরশু যখন খেলছিলেন মাঠে, উত্তেজনা, আবেগ সবই নেমে আসে বাংলাদেশ দলে। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তারা শিহরিত। কারণ এই জিনিস আগে কখনো রাঙিয়ে দিয়ে যায়নি বাংলাদেশের আর্চারি। এ দেশের আর্চারির দেড় দশকের ছোট্ট ইতিহাসে এখন সেরা সময়টায় এসে পৌঁছেছে। যার পোস্টার বয় রোমান সানা। চশমা পরা আপাতশান্ত ছেলেটা তির-ধনুকের লড়াইয়ে এত তীক্ষ্ণ আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর যে চ্যালেঞ্জ নিতে জানেন। অলিম্পিকের মতো বিশ্বসেরা ক্রীড়ায় যেতে পারা সেটারই বিশাল এক পুরস্কার।

 

ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের একজন করে আর্চার এই টুর্নামেন্ট থেকে অলিম্পিকের টিকিট নিতে পেরেছেন। বাংলাদেশ থেকেও নিয়েছেন একজন!

 

রোমানের এই স্বপ্নযাত্রার পেছনে সিটি গ্রুপের অবদান অনেক। এই গ্রুপটিই পাঁচ বছর মেয়াদি আর্থিক চুক্তি করে আর্চারি ফেডারেশনের সঙ্গে, যেখানে তারা আর্চারি ফেডারেশনকে লক্ষ্য দিয়েছে ২০২৪ অলিম্পিক থেকে পদক আনার। আগামী আট বছরে অলিম্পিক থেকে পদক আনা লাল-সবুজের কোনো ক্রীড়াবিদের পক্ষে হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু অলিম্পিক পদকের খোঁজে অন্তত মাঠে নামায় সিটি গ্রুপ ও বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন একটা করতালি দাবি করছেই।

 

বড় ধন্যবাদটা সবার আগে প্রাপ্য রোমান সানার। নিজেকে তৈরি করেছেন গভীর মনোযোগে। অনুশীলনে বলা হতো আজ ৩০০-৩৫০টি তির মারতে হবে। এটা শেষ করেই তিনি উঠতেন। লক্ষ্যপূরণ করতে জানেন। সেটিতে কোনো ছাড় নেই। সুইজারল্যান্ডে উচ্চতর প্রশিক্ষণে গিয়েও রোমান বলতে পারেন, ‘ওখানে আমি অনুশীলন করব না। কারণ, ওখানে আসা অন্যরা আমার সমকক্ষ নয়।’

 

নিজের ওপর এমন আস্থা যাঁর, সেই ছেলেটির আবিষ্কারক আর্চারি ফেডারেশন। ২০০৮ সালে খুলনায় আর্চারির প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি থেকেই উঠে আসা মুখ এই রোমান। শুরু থেকেই একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল তাঁর চলনবলনে। গতকাল হল্যান্ড থেকে ঢাকায় ফেরা বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলও বলে যান, ‘ওর মধ্যে যে প্রতিভা আছে, সেটা আমরা দেখেই বুঝে নিই।’

 

২০০৮ সালে খুলনায় যিনি আর্চারি প্রতিভা খুঁজতে আর্চারির ফেডারেশনের তরফে কোচ হিসেবে গিয়েছিলেন, সেই সাবেক আর্চার সাজ্জাদ হোসেনের কথায়, ‘তখন খুলনায় ১০ দিনের একটা ক্যাম্পে আমাদের সার্কুলার দেখে রোমানও আসে। খুলনা শহরে পুরোনো স্টেডিয়ামের পাশেই সোনালি অতীত ক্লাব মাঠে অনুশীলনটা হয়। প্রথম দিনেই দেখি, খুলনা শিশু উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়া রোমান অন্যদের চেয়ে ভালো। আর্চার হওয়ার প্রয়োজনীয় সব গুণ ওর ছিল।’

 

সে ক্যাম্পে ৪০ জন ছেলেমেয়ে ছিল। সবাইকে ছাপিয়ে কিশোর রোমান নীরবে জানান তাঁর ভেতরের প্রতিশ্রুতি। পরে খুলনা থেকে শুধু তাঁকেই ঢাকায় নিয়ে আসা হলো দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলনের জন্য, যাঁর আন্তর্জাতিক সোনা আছে ৭টি। ব্যাংককে এশিয়া কাপের সোনা জিতেছেন ২০১৪ সালে, যা ছিল এত দিন তাঁর সেরা সাফল্য।

 

এসব কৃতিত্ব রোমান অবশ্য একা নিতে রাজি নন। ভাগ করে দিতে চান সবাইকে। টোকিও অলিম্পিকে খেলার টিকিট তোলার পরও তাই বলতে পারেন, ‘সবার সহায়তা না পেলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না। সবাই আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।’ কোচ ফ্রেডরিখ, কর্মকর্তা, স্পনসর—সবার প্রতিই তাঁর অশেষ কৃতজ্ঞতা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

June 2019
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24