বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৭:২২ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
সিসিকে নাটকীয় দিন , আলােচনায় মেয়র

সিসিকে নাটকীয় দিন , আলােচনায় মেয়র

বুধবার দিনটি সিলেট সিটি করপোরেশনে কেটেছে উত্তেজনা আর নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। মেয়রকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা। মেয়রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বুধবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন দেন ২২ জন কাউন্সিলর। তবে এর কিছুক্ষণ পরই এই ২২ কাউন্সিলের মধ্যে ১১ জনই অভিযোগ করেন- প্রতারণার মাধ্যমে তাদের নাম এই অভিযোগপত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

আর ২৩ জন কাউন্সিলর পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে ‘মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অভিযোগ’ সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে এতে সিটি করপোরেশন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন। এমন সংবাদ সত্য নয় বলেও দাবি তাদের।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর ৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ ৩৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর গত কয়েকদিন ধরে সিটি করপোরেশনের বাইরে আলাদাভাবে বৈঠক করছিলেন। এনিয়ে নগরীতে নানা আলোচনা চলছিলো। এরমধ্যে বুধবার সকাল থেকে খবর আসতে থাকে- সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন ২২ জন কাউন্সিলর। ২২ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষর সম্বলিত এই আবেদনটি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রেরণ করা হয়। সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বরাবর এই আবেদন করেছেন বলেও খবর পাওয়া যায়।

তবে এ ব্যাপারে দুপুরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরণের কোনো অভিযোগ প্রাপ্তির কথা অস্বীকার করেন।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে অভিযোগের বিষয়টি চাউর হলেও বিকেলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে দেখা করে মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা আবেদনটি প্রদান করেন অভিযোগকারী কয়েকজন কাউন্সিলর।

ওই আবেদনে দেখা যায়- অভিযোগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও মেয়রের একান্ত সচিবকে অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

এতে অভিযোগ করা হয়- যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্বাচিত পরিষদের অনুমোদন নেওয়ার কথা থাকলেও মেয়র অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানেন না। প্রতি মাসে পরিষদের সভা হওয়ার কথা থাকলেও তাও হয় না। এমনকি বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে মেয়রের একক সিদ্ধান্তে অর্থ ব্যয় করা হয়। পরিষদের সভা বা কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা না করেই দক্ষিণ সুরমার তেঁতলী ইউনিয়নে সিসিকের এসপল্ট প্লান্ট নির্মাণের জন্য ৪১০ শতক ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ২৪ কোটি ৬১ লাখ ব্যয় করেন মেয়র।

এই অভিযোগপত্রে সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তারেক উদ্দিন তাজ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এ কে এম লায়েক, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদুর রহমান আজাদ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তনু দত্ত শন্তু, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তাকবিরুল ইসলাম পিন্টু, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল ইসলাম মুনিম, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মুহিত জাবেদ, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ তৌহিদুল হাদী, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রকিব তুহিন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ফুল আমিন বাকের, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তাক আহমদ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মখলিছুর রহমান কামরান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এসএম শওকত আমিন তৌহিদ, ২৪ নং ওয়ার্ডের সোহেল আহমদ রিপন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইলিয়াছুর রহমান, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রকিবুল ইসলাম ঝলক, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সিকন্দর আলী, সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদা সুলতানা, সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাজনীন আক্তার কণা ও সংরক্ষিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেবেকা আক্তার লাকির স্বাক্ষর রয়েছে।

কাউন্সিলররা এই অভিযোগপত্র প্রদানের কিছুক্ষণ পরই এই তালিকায় ১১ জন কাউন্সিলর জানান প্রতারণার মাধ্যমে তাদের স্বাক্ষর মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগের আবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।

কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম, শান্তনু দত্ত শন্তু, মাসুদা সুলতানা, রেবেকা আক্তার লাকি, সিকন্দর আলী, এসএম শওকত আমিন তৌহিদ, আব্দুর রকিব তুহিন, মখলিছুর রহমান কামরান, নাজনীন আক্তার কণা, সোহেল আহমদ রিপন ও আজাদুর রহমান আজাদ সাক্ষরিত এই বিবৃতি উল্লেখ করা হয়- ‘মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ সম্পর্কিত অভিযোগপত্রে আমরা স্বাক্ষর করিনি। ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও প্রতিবন্ধি ভাতা আরও বৃদ্ধি সংক্রান্ত মেয়রের কাছে দেয়া এক আবেদনপত্রে আমরা স্বাক্ষর করেছিলাম। যা অন্যায়ভাবে এই অভিযোগপত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিদাতা কাউন্সিলররা সিলেটের উন্নয়নে মেয়রের নেতৃত্বে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকারের কথাও জানান।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম  বলেন, আমরা রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এনিয়ে বিস্তারিত জানাবো।

১১ কাউন্সিলরের প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডের ভোটাররা যোগ্য লোকদেরই কাউন্সিলর বানিয়েছেন। তারা না বুঝে কোথাও স্বাক্ষর করে ফেলবেন এমনটি ভাবা ঠিক না। এ ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে আনা কাউন্সিলরদের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি এ ব্যাপার কিছু জানি না, গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি। তবে, আমি বিশ্বাস করি এমন কিছু ঘটেনি। সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন নিয়ে কাউন্সিলরদের দাবি থাকতেই পারে। অন্য কিছু না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

March 2020
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
242526272829  

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24