ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধে সব জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ

ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন নেই এমন সব যানবাহন চলাচল বন্ধ ও নতুন সড়ক আইন-২০১৮ বাস্তবায়নে দেশের প্রত্যেক জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ওই রিপোর্টের ওপর শুনানি শেষে হাই কোর্ট এ আদেশ দেন।

বিআরটিএর পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, তারা জনবল সংকটের কারণে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারছেন না। এ সময় তারা টাস্কফোর্স গঠনের আবেদন করেন।

এ জন্য হাই কোর্ট সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এ টাস্কফোর্স গঠন হবে। এতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিআরটিএ প্রতিনিধিসহ জেলা প্রশাসক প্রয়োজনবোধে অন্যদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

এ টাস্কফোর্স সকল গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করতে পারবেন এবং ফিটনেসবিহীন, আনফিট ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি জব্দ, চালককে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও গাড়ি ডাম্পিং করতে পারবেন।

আগামী তিনমাস পর এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতকে জানাতে বলা হয়। এ জন্য ১ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন আদালত।

বিআরটিএ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪টি ফিটনেস সনদ নিয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তারা হাই কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক প্রত্যেক ফিলিং স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ না করতে নোটিশ দিয়েছেন এবং তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

আদালতে বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন মঈন আলম ফিরোজী ও রাফিউল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না, মাহজাবিন রাব্বানী দীপা, কাজী শামসুন নাহার কনা ও ঈশিতা পারভীন।

গত বছরের ২৪ জুন হাই কোর্ট এক আদেশে ঢাকাসহ সারাদেশে নিবন্ধনের পর ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ি ও লাইসেন্স নিয়ে তা নবায়ন না করা চালকের বিস্তারিত তথ্য একমাসের মধ্যে দাখিল করতে বিআরটিএকে নির্দেশ দেন। ফিটনেস নবায়ন না করা যান ও লাইসেন্স নবায়ন না করা চালকের ক্ষেত্রে বিআরটিএ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও এ সময়ের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেন।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে গত বছরের ২৩ মার্চ একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই বছরের ২৭ মার্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাই কোর্ট আদেশ দেন। আদেশে সারা দেশে ফিটনেসবিহীন ও নিবন্ধনহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সহীন চালকের তথ্য জানাতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *