পেট্রল পাম্পে ধর্মঘটে কেন্দ্রের অনুমোদন ছিল না

১৫ দফা দাবিতে পেট্রল পাম্পে যে ধর্মঘট ডাকা হয় তাতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো অনুমোদন ছিল না। কতিপয় অসৎ ব্যক্তি জ্বালানি তেল সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে ‘পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট’ করেছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ১২ দফা দাবি সরকারের কাছে পেশ করার পর থেকে সরকার ধীরে ধীরে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিচ্ছে। কিছু দাবি অমীমাংসিত রয়েছে, যার জন্য সরকার বৈঠক ডেকেছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু এরই মধ্যে আমাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত কতিপয় অসৎ ব্যক্তি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে এবং জ্বালানি তেল সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আমাদের সংগঠনের নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে তিনটি বিভাগে ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির ফলে ওই এলাকার জনগণ ভোগান্তির শিকার হয় এবং ক্ষতিগ্রস্তও হয়। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আমরাও। এই ধর্মঘট কর্মসূচির সাথে আমরা কেন্দ্র থেকে কোনো অনুমোদন করেনি এবং ধর্মঘটের সঙ্গে সাধারণ মালিক-শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা ছিল না।

ধর্মঘটের পরে আপনারা সংবাদ সম্মেলন করছেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে আমি কমপক্ষে ১০ টি চ্যানেলকে ডেকে নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছে। তাদেরকে বলেছি এই ধর্মঘটের সাথে আমাদের কোন অনুমোদন নাই। এছাড়াও বেশ কিছু খবরের কাগজে আমাদের বিবৃতি ছাপা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ছয় মাস আগে থেকে সরকারকে সতর্ক করছি যে এই লোকগুলো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। আপনারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। কিন্তু, ব্যবস্থা নিবেন তো দূরের কথা বরং তাদেরকে ডেকে নিয়ে মিটিং করেছেন। আমরা সাধারণ তেল ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করলে ধর্মঘটে যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা যাইনি কারণ তেল শুধুমাত্র একটি পণ্য না, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। তেল না থাকলে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। এরকম একটা সেনসেটিভ জিনিস নিয়ে ধর্মঘট করা ঠিক না।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা পরিদর্শক ও লেবার পরিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা আছে। দপ্তরগুলোর হয়রানি কি? সে বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, আগে এই সকল দপ্তরের লাইসেন্স আমাদের নিতে হতো না। নতুন একটি আইন করেছে, যে কারণে এগুলোর লাইসেন্স আমাদের নিতে হবে। আমরা লাইসেন্স নিতে প্রস্তুত।

পরিবেশ অধিদপ্তর এর একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আমাদের পাম্পে যায়। গি‌য়ে জানতে চায়, এটার ভেরিয়েশন কত। ভেরিয়েশন এর ওপর নির্ভর করে আমরা ফি নির্ধারণ করব। ফি নির্ধারণ যেন কম হয়, সে জন্য আমাকে কি দিবেন বলেন? এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কি করণীয়?

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে বলতে চাই আমাদের একটা নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দেন। নির্ধারিত ফি আমরা জমা দিব, সে হিসাবে আমরা লাইসেন্সই নেব। সরকারের আইন আমরা মানতে চাই, কিন্তু ভোগান্তিতে যেতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *