অধ্যক্ষ সিরাজসহ ফাঁসির ৪ আসামির হাইকোর্টে আপিল

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলাসহ ৪ আসামি হাইকোর্টে আপিল করেছেন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল।

অধ্যক্ষ সিরাজ ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, নুর উদ্দিন ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড‍াদেশ হলে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এছাড়া আইন অনুসারে আসামিরা আপিলও করতে পারেন।

গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ আসামিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সেই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরয়ে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আবদুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসাটির গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

উল্লেখ্য, শ্লীলতাহানির চেষ্টায় মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ নুসরাতের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে। এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন।

কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করায় গত ৬ এপ্রিল ফেনীর পৌর শহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে হাত-পা চেপে ধরে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বোরকা পড়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। ১১ এপ্রিল বিকেলে লাখো মানুষের জানাজার পর সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। ঘটনায় জড়িত মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও পিবিআই।

গ্রেফতারকৃতদের প্রায় সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরে ৩০ মে মামলাটি স্থানান্তর হয় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুরু হয় শুনানি। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন করেন বিচারিক আদালত।

এর পর ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৯ অক্টোবর বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *