পেঁয়াজের আগুনে চাপা পড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

দাম বাড়ার পর থেকেই টক অব দ্যা কাউন্ট্রি ‘পেঁয়াজ’। দিনের পর দিন দামে আগুন ছড়াচ্ছে পেঁয়াজ। শুধু পেঁয়াজ নয় অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামেও আগুন। তবে পেঁয়াজের দামের ইস্যুতে চাপা পড়ে আছে সেসব নিত্যপণ্যের দাম। রসুন, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যে অসহনীয় ভাবে দাম বেড়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে দাম বেড়েছে এলাচের। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬০০ টাকা। আর পাইকারি বাজারেও এ মসলাটির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এলাচ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। ভারতরের কেরালায় গত বছরের বন্যা ও এ বছরের খরায় এলাচের উৎপাদন মার খেয়েছে। ফলে ভারত থেকে এলাচের আমদানি কমেছে।

বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশেও দাম বেড়ে গেছে। আমাদের দেশে পাইকারি বাজারে এলাচের মূল্য কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।’

এদিকে গত দুই সপ্তাহ হলে বেড়েই চলেছে শীতকালীন সবজির দাম। শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। বরং নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে চলেছেন অসাধু বিক্রেতারা। একই অবস্থা শাক ও ডিমের বাজারেও। ৭০-৮০ টাকার নিচে কোনো ভালো সবজি মিলছে না বাজারে। নতুন আলু কেজি প্রতি ১২০ টাকা। টমেটো কেজি প্রতি একশ টাকার ওপরে। বেড়েছে তেলের দাম, ময়দার দামও।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা ও উস্তি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা, ফুল কপি ৩০ থেকে ৭০ টাকা প্রতি পিচ, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ১০০ টাকা, সিম ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সবমিলিয়ে জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আসা সারওয়ার নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ভরা মৌসুমে শীতকালীন সবজির দাম কমে কিন্তু এখন বাড়ছে, কিন্তু কেন? সরকার এতো এতো কথা বলে কিন্তু মোট কথা হচ্ছে সব কিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ব্যবসায়ীরা আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লুটপাট করছে। আমরা সাধারণ মানুষ আসলে সরকার ও ব্যবসায়ী সবার কাছেই ধরা।’

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘পেঁয়াজের সংকট দূর করতে না পারার কারণে অন্যান্য পণ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ধীরে ধীরে বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও বেশি সাহসী হচ্ছে। আর কিছু অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেট এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *