রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
ছাতকে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত এক, ১৪৪ ধারা জারি

ছাতকে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত এক, ১৪৪ ধারা জারি

সুনামগঞ্জের ছাতকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর দফায়-দফায় সংঘর্ষে ইয়াকুব আলী নামে একজন নিহত হয়েছে। বুধবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জের সাদাবীজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবসায়ী, পথচারীসহ দু’শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ইয়াকুব আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায়  সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।  সংঘর্ষকারীরা সাদাব্রীজ এলাকায় কয়েকটি সিএনজি-ফোরষ্ট্রোক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। সংঘর্ষে ব্যাপক ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল ব্যবহার করা হয়। উভয় পক্ষ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময়ও করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে অন্তত ৩০ রাউন্ড টিআরসেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পুলিশ। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোবিন্দগঞ্জ পুলের মুখ ও আশপাশ এলাকায় রাত ৮ থেকে পরদিন সকাল ৮ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে রেলওয়ের লালপুল এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় শিবনগর গ্রামের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র ফয়সল আহমদ। গ্রামের লোকজনকে গালিগালাজ করতে বাধা দেয় শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার পুত্র সাজু মিয়া ও স্থানীয় দোকানী ফরিদ মিয়া। এসময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে।

বুধবার বিকেলে সিএনজি যোগে যাওয়ার পথে সাদাব্রিজ এলাকায় গাড়ীর গতিরোধ করে গাড়ী থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করে ফয়সল ও তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিএনজিতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় শিবনগর ও দিঘলী গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দু’ ঘণ্টা ব্যাপী দফায়-দফায় সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হলে গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আশপাশের সকল দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া হয়। পথচারীরা দিক্বিদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।

খবর পেয়ে থানা-ও দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মোস্তফা, জায়েদ, নাসির , আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্যান্য আহদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রাতে গুরুতর আহত শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর পুত্র ইয়াকুব আলী(৩০) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশের গুলি ও টিআরসেল ছোঁড়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

November 2019
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24