আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি ‘নিহত’

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উগ্র সশস্ত্রগোষ্ঠী কথিত ইসলামিক স্টেটের প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদির গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযানের দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। অভিযানে আবু বকর আল বাগদাদি নিহত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ অক্টোবর) উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় ওই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, তারা বিশ্বাস করছে মার্কিন অভিযানে বাগদাদি নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি টুইট বার্তায়ও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করা এক টুইট বার্তায় লিখেছেন-‘এইমাত্র বিশাল বড় কিছু একটা ঘটে গেছে।’ তিনি এ নিয়ে শিগগিরেই গণমাধ্যমের সামনে আসবেন।

সিএনএন এর ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন ওই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন আইএস নেতা বাগদাদির অবস্থান শনাক্তের কাজটি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তারপর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাগদাদির গোপন আস্তানায় যখন মার্কিন বাহিনী অভিযান চালায় তখন তিনি তার শরীরের বিস্ফোরক ভর্তি বেল্ট পরে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, বাগদাদি নিজেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টর কার্যালয় হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলে। প্রশাসনিক এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্পের এ ঘোষণা হবে বৈদেশিক নীতি সম্পর্কিত।

সিএনএন মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

২০১৪ সালে ঘোষণা দেওয়া কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান নেতা আবু বকর আল বাগদাদি গত পাঁচ বছর ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট (আইসিল) ইরাক ও সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকারী একটি উগ্র সুন্নী মতবাদীভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। এছাড়াও তারা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল, মিশরের সিনাই উপদ্বীপ এবং মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় রয়েছে। কথিত খিলাফত ঘোষণার পর তারা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের উপর ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্ব দাবি করে। আইসিল ঘোষিত কথিত খিলাফত ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে বিনাবিচারে বিভন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, শিরশ্ছেদ ও আগুনে পুড়িয়ে প্রতিপক্ষ ও বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশ, প্রচীন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন ধ্বংস ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *