সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
খুলনায় কপাল পুড়েছে ১১ হাজার কৃষকের

খুলনায় কপাল পুড়েছে ১১ হাজার কৃষকের

খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিল দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। পানি নিস্কাশনের পথ অবরোদ্ধ হয়ে পড়ায় কপাল পুড়েছে এখানকার ১১ হাজার কৃষকের। অনাবাদী হয়ে রয়েছে এ বিলের ২০ হাজার ৮০০ একর জমি।

জানা যায়, ২০০৫ সালের পর থেকে এই বিলের ভূমি মালিক ও কৃষকদের শুরু হয় দূঃখের জীবন। বিলের হাজার হাজার একর জমি থেকে পানি না সরে স্থায়ী হয়ে যায়। অথচ এক সময় এ বিলের জমি থেকেই এলাকার মানুষের সারা বছরের ধানের চাহিদা মিটত। যাদের জমি নেই, তারা অন্যের জমিতে কাজ করে জীবন ধারন করতো। ফসল কাঁটার সময় এ অঞ্চলে মানুষের মুখে হাঁসি ফুটে থাকতো।

কিন্তু বর্তমানে বিল থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগের অন্ত নেই এখানকার মানুষের। বর্ষা মৌসুমে কয়েক শতাধিক ঘর-বাড়িতে পানি উঠে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক সপ্তাহ লেগে যায় বাড়ি- ঘর থেকে পানি নেমে যেতে। এতে ছোট শিশু, বৃদ্ধলোক, গবাদিপশু নিয়েও পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে বেড়ে যায় পানিবাহিত রোগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে জানাযায়, এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাগবে ২০১০-১১ অর্থবছরে ২ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তার সুফল না পাওয়ায় ২০১৭-১৮-১৯ অর্থবছরের ৩ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প আবার ও হাতে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বিভিন্ন অনিয়ম এর কারনে সরকারের মহৎ এ প্রকল্পটি আবার ও বেহেসতে যাবার পথে এমমটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভুতিয়ার বিলের উপর নির্ভরশীল কয়েকশত পরিবার কাজ না পেয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্ত চলে গেছে। কেউবা আবার পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

বল্ববদনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ব থাকায় অনেক কষ্টে আছি। ছেলে মেয়ে নিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে বেচে আছি। ২ ছেলের লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় খাবার হোটেলে কাজ করছে।

তেরখাদা উপজেলার তেরখাদা উত্তরপাড়ার মনির হোসেন বলেন, চৌদ্দ পুরুষ ধইরা আমরা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু দীর্ঘদিনের ধরে জলাবদ্বতার কারনে আমাদের কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছি।

হাড়িখালী গ্রামের কৃষক আকরাম শেখ বলেন, এক সময় ভুতিয়ার বিলে আমন, ইরি বা আউষ ধানের চাষ হতো। কিন্ত স্থায়ী ভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় সারা বছরই ফসলি জমিগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে। যার ফলে ফসল ফলানো সম্ভব হয় না।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, তেরখাদার ভুতিয়ার বিলের জলাবদ্বতা দূরিকরণের লক্ষে প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ লক্ষে পানি নিস্কাশনের লক্ষে চিত্রা ও আঠারবাকী নদী খনন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে কাজগুলো সমাপ্ত করা হবে।এ প্রকল্প শেষে পরবর্তী পর্যায়ে যে অংশ গুলো থাকবে সেগুলো তৃতীয় ফেইজের আওতায় সম্পর্নূ করা হবে। এর পরপরই ভুতিয়ার বিলে জলাবদ্বতা নিরসন হবে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

September 2019
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24