শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১০ জুলাই

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১০ জুলাই

বাংলাদেশ ::মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির নির্মম হত্যাকাণ্ডের বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১০ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত।

যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিডিওতে ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রবিবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন অভিযুক্ত মোয়াজ্জেম হোসেনের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ আদালতে দুটি আবেদন করেন। একটি হলো, এজলাসের পাশে আসামির সঙ্গে আইনজীবীদের আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি। অপরটি মামলার আরজিতে দাখিল করা ভিডিও সংবলিত পেনড্রাইভের কপির জন্য আবেদন।

এ বিষয়ে আইনজীবী ফারুক আহমেদ শুনানিতে বলেন, ‘বাদী বা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একটি পেনড্রাইভটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এটি একটি সেনসেটিভ মামলা। এ মামলায় তাকে কিভাবে জড়ানো হয়েছে? তার বিরুদ্ধে কিসের অভিযোগ? কেন এ মামলা করা হয়েছে? এগুলো আমাদের জানতে হবে। তাই আমাদের অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিন। আমরা সকালে আদালতের হাজতখানায় গেছি তার সঙ্গে দেখা করতে। পুলিশ আমাদের বলেছে এটা সেনসেটিভ মামলা, দেখা করার সুযোগ নাই।’ এ সময় বিচারক বলেন, ‘আপনি তো জেলখানায় গিয়েও কথা বলতে পারেন। এখানে কথা বলার সুযোগ নাই।’

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘ওনারা পেনড্রাইভ চাচ্ছেন। এটা তো সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গেছে। ওইখানেও দেখতে পারেন। ওনারা যদি পেনড্রাইভটি দেখতে চান তাহলে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থিতিতে দেখতে পারেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জব্দ করা আলামতের কপি আসামি পক্ষকে সার্টিফাইড কপি আকারে দিতে হবে এটা আইনে বলা নাই।’ রাষ্ট্রপক্ষ আরও বলেন, অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য আছে। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি করা হোক। এরপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামির সঙ্গে আইনজীবীদের আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। আরজিতে দাখিল করা ভিডিও সংবলিত পেনড্রাইভের কপির জন্য আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ১০ জুলাই ধার্য করেন আদালত।

এদিকে রবিবার দুপুর ২টা ৪ মিনিটে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতের হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে উঠানো হয়। এরপর ২ টা ১৭ মিনিটে শুনানি শুরু হয় যা শেষ হয় ২টা ৪৭ মিনিটে। ৪৩ মিনিট আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত ১৭ জুন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় চার্জ গঠনের জন্য আজকের দিন (৩০ জুন) তারিখ ধার্য করা হয়।

দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার পর গত ১৬ জুন শাহবাগ থানা পুলিশ হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা মোয়াজ্জেমকে। পরের দিন ১৭ জুন সকালে ফেনীর সোনাগাজী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২৭ মে তার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তার রংপুরের কর্মস্থল, যশোরের গ্রামের বাড়ি, কুমিল্লার বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েও তাকে পায়নি। ২৭ মে’র পর থেকে গত ১০ জুন পর্যন্ত রাজধানীর কল্যাণপুরে এক খালার বাসায় ছিলেন তিনি। তবে, তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দারা সেখানেও যেতে পারেন, এমন আশঙ্কায় ওই বাসা থেকে তিনি কেটে পড়েন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় আইনবহির্ভূতভাবে ওসি নুসরাতের জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।

ওই ভিডিওটি বৃহস্পতিবার সোনাগাজীর আলো নামে একটি ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওটি শেয়ার করে। এরপর ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল- গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর থানায় পুরো ঘটনা নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন নুসরাত (ভিডিও)।

ভিডিওতে দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ওই ভিডিওটি ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে নাটক ও পরবর্তীতে অগ্নিদগ্ধের ঘটনাকে আত্মহত্যার রূপ দিতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এছাড়া দুটি ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদৌলাসহ তার সহযোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ধরনের আরও অসংখ্য অভিযোগে গত ১০ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

নুসরাত মারা যাওয়ার পর গত ১৫ এপ্রিল ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপরও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি।

গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত ক’দিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ

June 2019
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

Weather

booked.net




© All Rights Reserved – 2019-2021
Design BY positiveit.us
usbdnews24